হেমন্ত শীতের সন্ধিক্ষণে নারিশা ঘাট, যেখানে জীবন ছুঁয়ে যায় পদ্মার অপার সৌন্দর্যে

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নারিশা ঘাট হেমন্তের শেষে এবং শীতের আগমনে এক মোহময়ী রূপ ধারণ করে। কর্মব্যস্ত ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত পদ্মার তীরবর্তী এই স্থানটি কেবল একটি মাছের আড়ত নয়, এটি প্রকৃতির এক জীবন্ত কাব্য। হেমন্তের শেষে যখন শীতলতা সবেমাত্র তীব্র হতে শুরু করে, বিকেলের নরম আলোয় আকাশ কমলা-বেগুনি রঙে সেজে ওঠে এবং পদ্মা নদীর বারি চিকচিক করে। নদীর ওপার থেকে ভেসে আসা স্নিগ্ধ বাতাস এখানে এক মিষ্টি আলস্য ও রোমান্টিক আবেশ তৈরি করে। সন্ধ্যার আগে আগে জেলেদের ডিঙি নৌকা ভিড়তে শুরু করলে ঘাটে কর্মব্যস্ততা ও নীরব আলস্যের এক নিস্তব্ধ জন-কাব্য রচিত হয়। তবে নারিশা ঘাটের মূল আকর্ষণ হলো এর অপূর্ব সূর্যাস্ত, যখন সূর্যের শেষ সোনালি আলো নদীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশ-বারি এক অপরূপ আলিঙ্গনে বাঁধা পড়ে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, এই ঘাটটি প্রকৃতিপ্রেমী ও রোমান্টিকদের জন্য এক টুকরো রঙিন স্মৃতি যোগ করার উপযুক্ত স্থান।

নভেম্বর 15, 2025 - 13:59
 0  6
হেমন্ত শীতের সন্ধিক্ষণে নারিশা ঘাট, যেখানে জীবন ছুঁয়ে যায় পদ্মার অপার সৌন্দর্যে
নারিশা ঘাট
হেমন্ত শীতের সন্ধিক্ষণে নারিশা ঘাট, যেখানে জীবন ছুঁয়ে যায় পদ্মার অপার সৌন্দর্যে
হেমন্ত শীতের সন্ধিক্ষণে নারিশা ঘাট, যেখানে জীবন ছুঁয়ে যায় পদ্মার অপার সৌন্দর্যে

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পদ্মার সেই সুবিশাল জলরাশি আর তার তীরবর্তী এক স্নিগ্ধ জনপদের ছবি। আর এই জনপদেরই এক মোহময়ী ঘাট হলো দোহারের নারিশা ঘাট। কর্মব্যস্ত ঢাকা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এসে এখানে দাঁড়ালেই মনে হয়, যেন কোনো এক অজানা প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে মন। বিশেষ করে যখন হেমন্তের শেষে শীতের আগমনি বার্তা নিয়ে বিকেল নামে পদ্মার বুকে, তখন নারিশা ঘাট হয়ে ওঠে এক জীবন্ত কাব্য। ঠিক এই সময়টায়, প্রকৃতির ক্যানভাসে চলে এক নীরব তুলির টান। শীতের শীতলতা এখনো তীব্র হয়নি, কিন্তু বিকালের বাতাসে মিশেছে সেই স্নিগ্ধতা, যা মনে এনে দেয় এক মিষ্টি আলস্য। দুপুরের কড়া রোদ যখন নরম হতে শুরু করে, তখন নারিশা ঘাটের দৃশ্যপটে জন্ম নেয় এক রোমান্টিক আবেশ। আকাশের রঙে লাগে হালকা কমলা আর বেগুনির মিশেল। দূরে, পদ্মা নদীর জল চিকচিক করে ওঠে, সেই আলোয় যেন হাজারো জোনাকি নেচে বেড়াচ্ছে জলের গভীরে। নদীর ওপার থেকে ভেসে আসা শীতল হাওয়ার পরশে মন জুড়িয়ে যায়। এই বাতাস নিছক কোনো ঠান্ডা হাওয়া নয়, এ যেন দুরন্ত এক প্রেমিকের স্পর্শ, যা চুপিচুপি এসে কানে ফিসফিস করে বলে যায় জীবনের সুন্দরতম গল্প। নারিশা ঘাট কেবল একটি মাছের আড়ত বা পারাপারের স্থান নয়, এটি দোহারের জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি। সন্ধ্যার আগে আগে যখন জেলেদের ছোট ছোট ডিঙি নৌকাগুলো সারি সারি করে ঘাটে ভিড়তে শুরু করে, তখন এক নতুন দৃশ্যপট তৈরি হয়। দিনের শেষে ঘরে ফেরা জেলেদের কর্মব্যস্ততা, আর অন্যদিকে তীরে বসে থাকা কিছু নীরব মানুষের আলস্য, সব মিলিয়ে ঘাটটি হয়ে ওঠে এক নিস্তব্ধ জন-কাব্য। ঘাটের ধারে বসে থাকা কোনো এক যুবক কিংবা প্রৌঢ়ের চোখে তখন ধরা দেয় এক অন্যরকম বিষাদ, যা সৌন্দর্যেরই প্রতিরূপ। দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই মানুষটির নীরবতা যেন বলে দেয়, এই পদ্মা কেবলই নদী নয়, এ হাজারো স্মৃতি আর আবেগের আশ্রয়স্থল। এখানে বসে প্রিয়জনের হাত ধরে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা, কিংবা এক কাপ গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে শেষ বেলার আবছা আলোয় নদীর শান্ত রূপ উপভোগ করা, এ যেন এক নিখাদ রোমান্টিকতা। নারিশা ঘাটের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ হলো এখানকার সূর্যাস্ত। আগমনি শীতের বিকেলে সূর্য যখন হেলে পড়ে নদীর বুকে, তখন মনে হয় যেন আকাশ আর জল এক অপরূপ আলিঙ্গনে বাঁধা পড়েছে। সূর্যের শেষ সোনালি আলোটুকু নদীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে ছড়িয়ে পড়ে, মনে হয় প্রকৃতি যেন সমস্ত রং ঢেলে দিয়েছে এই একটি মুহূর্তকে অমর করে রাখার জন্য। এই আলোয় ঘাটের প্রতিটি বালুকণা, প্রতিটি নৌকা, এমনকি পাড়ে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষও যেন এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। এটি এমন এক দৃশ্য, যা কেবল চোখে দেখা নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করার বিষয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই ঘাটে এলে মনে হবে, যেন সময় থমকে গেছে কোনো এক পুরোনো প্রেমিকার চিঠির ভাঁজে। নারিশা ঘাট, দোহারের সেই নিভৃত স্থান যা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে আর আগমনি শীতের রোমান্টিক আমেজে পরিপূর্ণ। এক বিকেল এখানে কাটানো মানেই জীবনের খাতায় যোগ করা এক টুকরো রঙিন স্মৃতি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0