কোমা
কে. রাজীব আহমেদ
ঘরটা ঠান্ডা, নিঃশব্দে মোড়ানো।
শুধু মাঝে মাঝে একটা যন্ত্র শব্দ করে ওঠে বিপ বিপ
যেন দেহে প্রাণের অস্তিত্বের জানান দেয়
শরীরটা পড়ে আছে হাসপাতালের এর বিছানায়, নিথর,
সে বেঁচে আছে শিরায় রক্ত বইছে
রুমের ভিতরে কোথাও একটা আলো
নিভু নিভু করে জ্বলছে, হৃৎস্পন্দনের সথে তাল মিলিয়ে।
চোখ খোলা অনুভূতিহীন
অথচ চারপাশে কত উদ্বিগ্ন চাহনি।
চোখে জল জমে যায় অজান্তেই
হয়তো কলবে জানান দেয় স্রষ্টাকে গোপন প্রার্থনায়
আবার আমায় সুযোগ দাও
যেতে দাও আমার প্রিয়তমার কাছে
সে যে দরজার ওপাশে আমার অপেক্ষায়,
নির্ঘুম, ক্লান্ত মেঝেতে বসে
খোদা তোমার দয়ার আশায়।
স্রষ্টার ইশারা কখন আসে
দেহ নাড়া দিবে নয়তো সব থেমে যাবে সহসাই।
হাইপারগ্লাইসেমিয়া সব এলোমেলো করে দিয়েছে,
মানুষটি আজ কোমায়।
বাইরে পৃথিবী চলছে, শিশুরা হাসছে, পাখিরা গান গাচ্ছে।
অথচ এখানে সবকিছু স্থির, শ্বাসের শব্দও যেন আছড়ে পড়ে।
একদিন, হয়তো সে চোখ খুলবে।
আর সেদিন, এই বেদনার ঘর ভরে উঠবে আলোয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0