ফর্সা নয়, চাই সুস্থ ত্বক
ফর্সা হওয়ার অন্ধ আকাঙ্ক্ষা আজ অনেককে ক্ষতিকর কেমিকেলযুক্ত ক্রীমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে , যা ত্বকের প্রকৃত স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে । সৌন্দর্য কখনোই গায়ের রঙে নয় , বরং স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক ও যত্নে রাখা ত্বকে । আগেকার ঘরোয়া উপাদান বেসন , দই , মধু , অ্যালোভেরা ত্বককে নিরাপদে পুষ্টি দিত । পর্যাপ্ত ঘুম , পানি , পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক শান্তিই ত্বকের আসল যত্ন । সত্যিকারের সৌন্দর্য আসে আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ভালোবাসা থেকে ।
মানুষ সুন্দরের পূজারী । নিজের সৌন্দর্যের প্রশংসা শুনতে কে না ভালোবাসে ! পরিপাটি ও আকর্ষণীয় দেখাতে অনেকে নানা প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে । ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই এখন কসমেটিকসের দোকান থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ পর্যন্ত গ্রহণ করেছ ।
তবে বেশিরভাগ মানুষের ভিড় দেখা যায় প্রসাধনীর দোকানে । বাজারে নানা ধরনের নাইট ক্রীম ঐতৃর্ব , গৌরি , শিউলি , চাঁদনী , স্কিন সাইন , এল . সি .আই - এ ছাড়াও বিভিন্ন লোশন ও ফেসপ্যাক ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে । এসব ক্রীম রাতে ব্যবহার করার পর কেউ অতিরিক্ত রোদে গেলে বা আগুনের কাছাকাছি এলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে ।
অনেকেই জানে না , কিছু নাইট ক্রীম বা ফেয়ারনেস ক্রীমে থাকা মারকিউরী , হাইড্রোকুইনন, স্টেরয়েডের মতো ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে ।এসব উপাদান ত্বকের স্বাভাবিক রং নষ্ট করে , ত্বককে পাতলা ও সংবেদনশীল করে তোলে । এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি ও বাড়িয়ে দেয় ।
জেনেও -না-জেনেই অনেকেই এসব ক্রীম ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষতি করে । বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে মেছতা পড়ে , ব্রণ -ফুসকুড়ি হয় , উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় । আগেকার মানুষ আধুনিক প্রসাধনী ব্যবহার করত না । নারিকেল তেল বা সরিষার তেলই ছিল তাদের ভরসা । তাদের ত্বক ছিল স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল ও প্রাকৃতিক । বেসন , দই , মধু , অ্যালোভেরা , হলুদ, গোলাপজলের মতো ঘরোয়া উপাদানই ছিল তাদের স্কিনকেয়ার ।
এসব উপাদান কখনো ত্বকের ক্ষতি করত না ; বরং ত্বককে রাখত দীর্ঘদিন তরুণ ও প্রাণবন্ত । কিন্তু এখন সৌন্দর্য যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা । টেলিভিশন , ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপন দেখে মূহুর্তেই 'ফর্সা হওয়ার ' স্বপ্নে অনেকেই ফাঁদে পড়ে । অথচ সত্য হলো ত্বকের সৌন্দর্য ফর্সা রঙে নয় , সুস্থ ও প্রাকৃতিক ত্বকেই । ত্বক সুস্থ রাখতে শুধু ক্রীম নয় , জীবনযাপনের অভ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ ।
পর্যাপ্ত ঘুম , খাদ্যাভ্যাস , পর্যাপ্ত পানি পান , নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তি ত্বকের প্রকৃত সৌন্দর্য ধরে রাখে । সৌন্দর্যের নামে কেমিকেলের পেছনে অন্ধভাবে না ছুটে চলায় ভালো । ওই ত্বক একসময় প্রতিশোধ নেবে । যে ত্বক সারাজীবন আমাদের সঙ্গ দেয় , তাকে রাসায়নিকের ভার দিলে সে টিকবে কীভাবে ? সত্যিকারের সৌন্দর্য কৃত্রিম জিনিসে নয় ।
এটি আত্মবিশ্বাসে , পরিচ্ছন্নতায় এবং নিজের প্রতি যত্নে লুকিয়ে থাকে । প্রতিদিন নানা ধরনের ক্রীম ও মেকআপ ব্যবহার করে অনেক তরুণী নিজের আসল রূপ টাকে আড়াল করছে । এতে সাময়িক উজ্জ্বলতা মিললেও পরে ত্বক কালচে ,রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে । ত্বকের প্রকৃত যত্ন আসে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য থেকে । ভিটামিন 'সি ও 'ই'-সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি , পানি , এবং মানসিক প্রশান্তি ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর রাখ ।
আজকাল ছেলেদের মধ্যে ও ফর্সা ত্বকের প্রতি অস্বাস্থ্যকর আর্কষণ দেখা যাচ্ছে । সমাজে আমরা প্রায়ই ফর্সা মানুষ কে বেশি গুরুত্ব দিই । গায়ের রং একটু শ্যামলা বা কালো হলে তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করি । অথচ সত্য হলো অনেক শ্যামলা বা কালো মানুষের ত্বক ফর্সা মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে । তাই কাউকে তার গায়ের রং নিয়ে খোঁটা না দেওয়াই উচিত। সৌন্দর্যের আসল মাপকাঠি ত্বকের রং নয় ; স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাস । নিজেকে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যের রহস্য ।
What's Your Reaction?
Like
4
Dislike
0
Love
4
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
4