টেম্পলো ভিভিয়েন্তে

টেম্পলো ভিভিয়েন্তে (Templo Viviente) অধ্যায়-১ দ্যা গোল্ডেন স্টার মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমে আজিনা মরুভূমি। মরুভুমির চারদিকেই গহীন বন। সূর্যাস্তের পর যেখানে জমে ওঠে অদ্ভুত ঠাণ্ডা আর জেগে ওঠে ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া এক পিরামিড। যার বয়স অনুমান করা হয় দশ হাজার বছরেরও বেশি। এই পিরামিডকে স্থানীয়রা বলে “টেম্পলো ভিভিয়েন্তে” জীবন্ত মন্দির। কারণ এর ভেতরে নাকি সব কিছু জীবন্ত। তারা শব্দ করে, নড়াচড়া করে। কেউ কেউ তা শোনে আবার কেউ দেখে। আবার কেউ বলে ভেতরটা নাকি অভিশপ্ত। ১. আলিয়াস ১৭ বছর বয়সী আলিয়াস তার মা-কে নিয়ে একটি ক্যাম্পে বেড়াতে আসে। আশেপাশের জঙ্গল গুলোতে শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে ক্যাম্পিং করে। মরুভুমি থাকার কারনে পিরামিডের এইদিকে সাধারণত মানুষ তেমন একটা আশে না। তবে কিছুদিন আগে একদল গবেষক এখানে পিরামিডের খুব কাছে ক্যাম্প স্থাপন করেছে হারানো এক বন্য জাতির ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের জন্য। পিরামিডের প্রতি কৌতুহলের কারনে আলিয়াসের মা ই তাকে এখাসে আসার আইডিয়াটা দেয়। আলিয়াসের মা একজন জিওগ্রাফির প্রফেসর কাজেই উনারও এই জায়গাটার ব্যাপারে কিছুটা আগ্রহ ছিলো। আলিয়াস ছিলো অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও কৌতুহলী। তার ছিলো বিশেষ এক ক্ষমতা, সহজেই অনুমান করতে পারে মানুষের ভাবনাগুলি এবং সেগুলো প্রায় মিলে যায়। সেই রাতে, আলিয়াস তার রুমের জানালা দিয়ে এক মনে তাকিয়ে ছিলো বাইরে। শান্ত মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা পিরামিড যেন তাকে ইশারায় ডাকলো। মনে হলো কেউ তার মাথার ভেতর ফিসফিস করে বলছে। “ভিতরে এসো… আমরা তোমার অপেক্ষায়…” ২. পিরামিডের প্রবেশদ্বার যেখানে রহস্যের শুরু আলিয়াস যখন প্রবেশদ্বারের সামনে দাড়ালো এক দমকা বাতাস যেন তাকে ঠেলে পিরামিডের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো। ভেতরটা বেশ অদ্ভুত। ঠান্ডা এবং ভয়ংকর নিশ্চুপ। এমন নিস্তব্ধতা, যেন পৃথিবী থেকেই শব্দ মুছে গেছে। কিন্ত এমন নীরবতার মধ্যেও সে শুনতে পেল: “শুনতে পাচ্ছো আমাদের কথা? তুমি তো আমাদের মতই” মনে হচ্ছে শব্দটি তার মাথার ভেতরেই জন্ম নিচ্ছে। ৩. দেয়ালে অদ্ভুত চিহ্ন যা নড়ে পিরামিডের দেয়াল জুড়ে অসংখ্য আঁকা ছবি, নানা রকম চিত্রলিপি। কিন্তু আলিয়াসের টর্চের আলো পড়তেই আঁকাগুলো যেন নড়েচড়ে উঠলো অনেক আজানা জীব জন্তুর ছবি রয়েছে দেয়ালে। ওগুলো যেন এদিক সেদিক সরে যাচ্ছে। যেন বহু বছর পর জীবন্ত হয়ে উঠছে। ৪. পিরামিডের ভেতর সমাধী পিরামিডের ভেতরের দিকে দেখা গেলো তিনটি সমাধী, তিনটি প্রায় একই সমান একই রকম দেখতে। পিরামিডটি দুই অংশ বিশিষ্ট। ভেতরে বিশালাকার মোট ৯টি চেম্বার রয়েছে। নিচের অংশে তিনটি চেম্বার ও ওপরে ছয়টি। নিচের তিনটি চেম্বারের মধ্যে মাঝেরটা দিয়ে এগোলে শেষ প্রান্তে দেখা যায় সমাধীগুলোকে কিন্তু ওপরে যাওয়ার কোন রাস্তা পাওয়া গেলো না।সমাধীগুলোর উপরের অংশটা ধাতব ঢাকনাওয়ালা এবং এতে মানুষের মুখ খোদাই করা হতে পারে সমাধীতে থাকা ব্যক্তিরই মুখ ওটা। ধাতব ঢাকনার বুকের উপর তিনটি তারা বসানো, মনে হচ্ছে ওটা আলাদা ভাবে লাগানো হয়েছে মানে চাড় দিয়ে তোলা যাবে। সমাধীর ওপরের ঢাকনাগুলো কালো বর্ণের ধাতুর তৈরি কিন্তু ঐ তারাগুলো সোনালী বর্ণের। অদ্ভুত ব্যাপার হলো ডান পাশের সমাধীটার বুকে একটি তারা নেই। জায়গাটা ফাকা, সম্ভবত কেউ ওটা তুলে নিয়েছে। কিন্তু কেন? ৫. পাথরের টেবিলে একটি প্রাচীন বই পিরামিডের সবচেয়ে ভেতরে একটি ত্রিভুজাকৃতির বিশাল পাথর, অনেকটা টেবিলের মত যাতে খোলা অবস্থায় আছে একটা বহু প্রাচীন বই। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সে বুঝলো বইয়ের ভাষা তার অজানা। প্রচন্ড কৌতুহলবশত সে বইটি তার ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললো। আলিয়াসের মনে হতে লাগলো এই পিরামিডের ভেতরে যে তিনটা সমাধী রয়েছে তাদের সাথে তার নিজের কোন একটা কানেকশন রয়েছে। তার মতো আগেও আরও মানুষ হয়তো ছিল, যাদের অদ্ভুত কল্পনা শক্তি ছিলো। এমনটা হতেই পারে কিন্তু এছাড়াও আরো কিছু আছে যা আলিয়াসকে ভীষন আকর্ষন করছে। ৬. বালির নিচে সোনালী তারা ওপরের চেম্বারগুলো দেখার ইচ্ছা থাকলেও রাস্তা না থাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই পায়ের ধাক্কায় কিছু একটা সরে গেলো মনে হলো। নিচে তাকিয়ে বালি ছাড়া আরকিছু চোখে পড়লো না। ঐ স্থানে পা দিয়ে কয়েকবার ঘষা দিলে আবার কিছু একটা পায়ে লাগলো আলিয়াস হাত দিয়ে একটু খুঁজতেই পাওয়া গেলো বস্তুটা। একটা সোনালী রঙের তারা। দেহে বিদ্যুৎ খেলে গেলো আলিয়াসের। এটা সেই ‘তারা’ যেটা সেই ডান পাশের সমাধীতে অনুপস্থিত ছিলো। তারাটি হাতে নিতে আবারো চলল সমাধীর দিকে । সমাধীর ধাতব ঢাকনার বুকে তারাটি বসিয়ে দিতেই আলিয়াসের একটা অদ্ভুত অনুভুতি হলো যেন এক ঝলক বাতাস কোথাও থেকে পিরামিডের ভেতর প্রবেশ করলো। কানের কাছে মৃদু ফিসফিসানি শোনা গেলো। ৭. ফিরে আসা আলিয়াস দ্রুত ফিরে যেতে লাগলো পিরামিডের প্রধান দরজার দিকে। আরো জানতে হবে এই পিরামিড কিংবা এই মন্দিরের ব্যাপারে। কৌতুহল আরো বেড়ে যাচ্ছে ক্রমেই। বের হবার আগে আড়চোখে আলিয়াস খেয়াল করলো দেয়ালে আঁকা ছবিগুলো অন্যরকম হয়ে গেছে চোখের পলকে। প্রবেশের সময় যেমনটা ছিলো এখন তেমন নেই। আলিয়াস এক দৌড়ে পিরামিডের বাইরে এসে দেখলো তার মা দাঁড়িয়ে এবং অনেকটা উদ্বিগ্ন। তাকে দেখা মাত্রই ধমকে জিজ্ঞেস করলো এতো দেরি করলে কেনো? তুমি কি জানো কতক্ষন ভেতরে ছিলে? প্রায় তিন ঘন্টা । অথচ তুমি ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ফিরে আসবে বলেছিলে। আর তোমার ফোন কোথায় কল যাচ্ছে না কেন? আলিয়াস অবাক হয়ে বলল কি বলছ মা! আমার তো মনে হচ্ছে আমি এক ঘন্টাও ছিলাম না ভেতরে। আর ফোনের কথাও ভুলে গেছিলাম একবারের জন্যেও পকেট থেকে বের করিনি কিন্তু কল কেন আসলো না বুঝতে পারছিনা। মা বললেন দ্রুত গাড়িতে ওঠো যাও।

নভেম্বর 25, 2025 - 18:04
নভেম্বর 26, 2025 - 21:30
 0  4
টেম্পলো ভিভিয়েন্তে

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0
K. Razib Ahmed I like to read and write.