ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা IBS, পথ্যই যার সমাধান
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) হল একটি সাধারণ হজমজনিত ব্যাধি যা বৃহদান্ত্রকে প্রভাবিত করে, যার ফলে পেটফাঁপা, অস্বস্তি এবং মলত্যাগে পরিবর্তন দেখা দেয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যার বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে যেমন- ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের অভ্যাসে অনিয়ম বা পরিবর্তন, মলে শ্লেষ্মা, পেটে ব্যথা, পেট-মোচড়ানো।
IBS ব্যাবস্থ্যাপনার মূল চাবিকাঠি আপনার খাবার নির্বাচনের মাঝে রয়েছে। বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল অনুসারে, কম FODMAP(fermentable oligosaccharides, disaccharides, monosaccharides, and polyols) ডায়েট IBS এর লক্ষণগুলি ৫০-৮০% কমাতে পারে।
কিছু সহজ এডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে যেমন- প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ বৃদ্ধি করা, হাইড্রেটেড থাকা এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যে প্রোবায়োটিক অন্তর্ভুক্ত করা; রোগী তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারেন।
IBS এর জন্য কম FODMAP ডায়েট সেরা পছন্দ। এর জন্য উপযুক্ত ভালো খাবারের এখানে কিছু উদাহরন দেওয়া হল:
• ভাতের সাথে গ্রিল করা মুরগি
• কলার সাথে ওটমিল
• ভাপানো গাজর দিয়ে বেক করা মাছ
• বেরি দিয়ে ল্যাকটোজ-মুক্ত দই
• শসার সাথে কুইনোয়া সালাদ
পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুটি, গম, দুগ্ধজাত খাবার, ভাজা খাবার, কৃত্রিম মিষ্টি, ক্যাফেইন এবং কার্বনেটেড পানীয়ের মতো উচ্চ FODMAP খাবার IBS রোগীদের পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া এবং পেটের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যেহেতু বিভিন্ন ব্যক্তির খাবারের ট্রিগার আলাদা, তাই 'এড়িয়ে চলা উচিত' এবং 'গ্রহণ করা উচিত' এমন খাবারের তালিকা বিভিন্ন রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে।
খাদ্যের মাধ্যমে IBS ব্যাবস্থ্যাপনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়াও জরুরি। ভাজা খাবার এড়িয়ে চলে, সিদ্ধ করা, গ্রিল করা, বেকিং করা যেতে পারে। এটি IBS-এর ফ্লেয়ার-আপ কমাতে এবং অন্ত্রে জ্বালা কমাতে সাহায্য করবে।
জীবনধারার পরিবর্তন, যেমন স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, সচেতন খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম, সারা দিন অল্প পরিমাণে, ঘন ঘন খাবার খাওয়া এবং ধীরে ধীরে খাওয়া লক্ষণগুলি উপশম করতে আরও সাহায্য করতে পারে।
এই রুগীর জন্য কিছু করনীয় ও বর্জনীয় কাজের তালিকা-
করনীয়ঃ
• স্বাস্থ্যকর ও ব্যালেন্সড নিউট্রিশাস খাবার খেতে হবে
• কোন খাবারে উপসর্গ ট্রিগার হয় তার একটি ডায়রি মেইনটেইন করতে হবে
• পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে
• পর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম ও বিশ্রাম এনশিওর করতে হবে
বর্জনীয়ঃ
• কোন বেলার খাবার স্কিপ করা বা দেড়ি করে খাওয়া যাবে না
• অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে
• অতি দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে খাওয়া যাবে না
• এলকোহল বা কার্বনেটেড ড্রিংক্স এড়িয়ে চলতে হবে
• অতিরিক্ত চা-কফি অথবা বেশি কড়া চা-কফি বর্জন করতে হবে
এই ডায়েট আজীবন মেয়াদী নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩-৬ মাসে রোগাবস্থার উন্নয়ন ঘটে। যাদের অন্ত্রের সমস্যা বেশি তাদের ১২ মাস পর্যন্ত এধরনের ডায়েটে থাকা দরকার হতে পারে।
IBS এ একেজন রুগীর রোগের ধরণ, উপসর্গ ও ট্রিগার উপাদান ভিন্ন হয়ে থাকে বিধায় এক্ষেত্রে একটি ডায়েট সকলের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। তাই রুগীর নিজস্ব সমস্যা ও চাহিদা অনুসারে খাদ্য এবং জীবনধারা সামঞ্জস্য করার জন্য একজন ক্লিনিকাল ডায়েটিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া জরুরী।
-ক্লিনিকাল ডায়েটিশিয়ান
সানজিদা শারমীন
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
1
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0