দ্য লিবার্টি সাইফার
সারাংশ
ষোল বছর বয়সী জ্যাক হান্টার, একজন ইতিহাসপ্রেমী স্কুলছাত্র, তার দাদার পুরনো বুকস্টোরে একটি গোপন চিঠি খুঁজে পায়। চিঠিটি একটি রহস্যময় সংকেত বা সাইফারে লেখা, যা আমেরিকান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের বলে মনে হয় এবং এতে একটি গোপন সংগঠনের নাম উঠে আসে: দ্য লিবার্টি অর্ডার। জ্যাক এবং তার সেরা বন্ধু এলিজা রেয়েস চিঠির সংকেত বিশ্লেষণ করতে থাকে এবং তারা ঢুকে পড়ে এক লুকানো জগতে যেখানে আছে প্রাচীন মানচিত্র, বোস্টনের নিচে গোপন সুড়ঙ্গ, এবং আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে যুক্ত এক হারানো গুপ্তধন। কিন্তু তারা একা নয় একটি রহস্যময় গোপন দলও এই গোপন তথ্য উদ্ধারে মরিয়া, এবং তারা জ্যাককে থামাতে যেকোনো কিছু করতে পারে। ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে, আর জ্যাকের লড়াই শুরু হয় সত্য উন্মোচনের এবং বেঁচে থাকার জন্য।
অধ্যায় ১: গোপন চিঠি
পুরনো বুকস্টোরের দরজার ঘণ্টা ধ্বনি বাজল হালকাভাবে, যখন জ্যাক হান্টার ভিজে জামাকাপড় ঝেড়ে দোকানে ঢুকল। বাইরে, বোস্টনের পাথরের রাস্তাগুলো বিকেলের ধূসর আলোয় চকচক করছিল।
“গ্র্যাম্পস?” সে ডাক দিল।
কোনো উত্তর নেই।
সে পরিচিত বুকস্টোরের অলিগলি পেরিয়ে গেল যেখানে বিপ্লব যুদ্ধ নিয়ে বই আর পুরনো সংস্করণের পাণ্ডুলিপি সাজানো। বাতাসে ইতিহাসের পুরনো গন্ধ। জ্যাক উঠে গেল কাঁপা সিঁড়ি বেয়ে দোতলার অ্যাটিক কক্ষে। তার দাদা এক সপ্তাহ আগে মারা গেছেন, আর মা’কে সে কথা দিয়েছিল, পুরনো জায়গাটা পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে। আলোর বিমে ধুলো ঘুরছিল যখন সে অ্যাটিকের দরজা খুলল। দরজার শব্দ যেন কোনো সতর্কবার্তা। এক কোণে, মথে খাওয়া পতাকার নিচে ছিল একটি কাঠের সিন্দুক, যাতে পিতলের তালা লাগানো। কৌতূহলী হাতে জ্যাক সিন্দুকটি খুলল।
ভিতরে পাওয়া গেলো একটি সিল করা খাম, তাতে লাল মোমের সীল মাঝখানে একটি চাবি, চারপাশে আঁকা ১৩টি তারা।
জ্যাক বিস্ময়ে তাকাল। সে আগেও এই প্রতীক দেখেছে, তার দাদার সংগ্রহে থাকা একটি উপনিবেশ আমলের কয়েনে।
কাঁপা হাতে সে সীলটা ভাঙল।
ভেতরে ছিল পুরনো কাগজে আঁকা কার্সিভ হস্তাক্ষরে কিছু লেখা এবং কিছু প্রতীক। পুরোটা সংকেতে লেখা।
“দ্য লিবার্টি সাইফার সত্যকে রক্ষা করে। রাস্তাগুলোর নিচে, যেখানে লণ্ঠন হাতে মিছিল করেছিল, সেখানেই রয়েছে চূড়ান্ত চাবি…”
জ্যাক ফিসফিস করে বলল, “লণ্ঠন… পল রিভিয়ারের রাইডের মতো?”
হঠাৎ নিচে এক মেঝের কাঠ চাপা শব্দে কেঁপে উঠল। পায়ের শব্দ।
তার মানে সে একা নয়।
অধ্যায় ২: চুরি
জ্যাক স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
পায়ের শব্দ আরও পরিষ্কার হচ্ছিল। কেউ দোকানে ঢুকেছে।
সে টর্চ বন্ধ করে বক্সের পেছনে লুকাল। অ্যাটিকের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখল একজন মানুষ কালো ট্রেঞ্চ কোট পরে ভেতরে ঢুকছে।
সে সোজা কাউন্টারে গেল, ড্রয়ার ঘাঁটতে লাগল, রেজিস্টার চেক করল, ডেস্কের পেছনের তাকগুলো নেড়েচেড়ে দেখল। বোঝাই যাচ্ছে বই কেনার লোক নয় সে।
ভয়ে জ্যাকের বুক কাঁপছিল। সে ফোন বের করল কিন্তু কোনো সিগনাল নেই। জ্যাক ভয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো।
রহস্যময় লোকটা হঠাত ওপরে তাকাল । জ্যাক বুঝতে পেরে অন্য দিকে সরে গেল কিন্তু দেরি হয়ে গেছে, দেখে ফেলেছে বোধহয়। লোকটা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে আসছে। তবে বুদ্ধি খাটিয়ে, জ্যাক খাম আর সাইফার ব্যাগে ভরে নিঃশব্দে পাশের জানালা দিয়ে বাইরে বের হয়ে গেল।
ঠান্ডা বৃষ্টিতে মুখ ভিজে গেল তার কিন্তু তা কেয়ার না করে সে নিচে নেমে দৌড়াতে লাগল।
এই চিঠিটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেটা স্পষ্ট আর এখন কেউ এটা চায়, ভয়ঙ্কর কেউ।
অধ্যায় ৩: এলিজা
ভিজে একাকার অবস্থায় জ্যাক ছুটে গেল এলিজার বেইসমেন্ট ওয়ার্কশপে। চারদিকে যন্ত্রপাতি, ড্রোন, গিয়ার ছড়ানো।
এলিজা তাকিয়ে বলল, “ওয়াও! তুমি বুঝি টাইম ট্রাভেলিং অ্যাসাসিনের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছ?”
জ্যাক হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “খুব একটা ভুল বলোনি। গ্র্যাম্পসের অ্যাটিক থেকে কিছু পেয়েছি।”
সে দ্রুত ব্যাগ খুলে কোডেড চিঠিটা বের করল।
ইহানের চোখ সংকীর্ণ হয়ে গেল, “এই প্রতীকটা… দ্য লিবার্টি অর্ডারের সঙ্গে যুক্ত। আমার চাচা একটা যুদ্ধের গোপন সংগঠন নিয়ে থিসিস লিখেছিল।”
জ্যাক অবাক, “সত্যি?”
এলিজা মাথা নেড়ে বলল, “অনেকে মনে করে এটা মিথ, কিন্তু এই চিঠি… এটা একটা সাইফার। এটা কিছু নির্দেশ করছে।”
জ্যাক বলল, “তুমি কি মনে করো এটা পল রিভিয়ারের সঙ্গে জড়িত?”
এলিজা হাসল, “আমরা খুব শিগগিরই জানতে চলেছি।”
অধ্যায় ৪: মধ্যরাতের সূত্র
সেই রাতে, টর্চ আর একটি ক্যামেরা হাতে নিয়ে জ্যাক ও এলিজা ঢুকে পড়ল অল্ড নর্থ চার্চে।
“এখানেই লণ্ঠন ঝুলানো হয়েছিল,” জ্যাক ফিসফিস করে বলল। “একটা যদি আসে স্থলপথে…”
“…আর দুটি যদি আসে জলপথে,” এলিজা বাক্যটি শেষ করল।
তারা পুরনো বেঞ্চ, মঞ্চ এমনকি বেদীর পেছনেও খুঁজল। তারপর এলিজা দেখল দেয়ালে একটি আলগা ইট।
ইটের পেছনে ছিল একটি ধাতব বাক্স। ভিতরে: আরেকটি চিঠি।
“যে ব্যক্তি মধ্যরাতে ঘোড়ায় চড়ে আসে, সে চাবিটি বহন করে হাতে নয়, বরং তার ঘোড়ার নিচে।”
জ্যাক ভ্রু কুঁচকে বলল, “তার ঘোড়ার নিচে?”
“একটি মূর্তি!” হঠাৎ বলে উঠল এলিজা। “নর্থ স্কয়ারে পল রিভিয়ারের একটা মূর্তি আছে।”
জ্যাক মাথা নাড়ল, “চলো যাই।”
অধ্যায় ৫: গোপন কুঠুরি
চাঁদের আলোয় পল রিভিয়ারের মূর্তিটি দাঁড়িয়ে ছিল গম্ভীর ভঙ্গিতে। জ্যাক হাঁটু গেঁড়ে বসে ভিত্তিটি পরীক্ষা করল।
“এখানে,” সে ফিসফিস করে বলল। পাথরের মধ্যে আবছা আলোয় একটি সিম (Seam)দেখা গেল। এলিজা তার মাল্টিটুল বের করল। তারা সেটি খুলে ফেলল ভিতরে ছিল একটি মখমলের থলে। আর তার ভিতরে একটি রূপার মেডেলিয়ন, তাতে খোদাই করা চাবি ও তারা-যুক্ত প্রতীক।
পেছনে লেখা: “নকশাটি রয়েছে স্বাধীনতার ঘণ্টার নিচে।”
জ্যাক নিঃশ্বাস আটকে বলল, “লিবার্টি বেল। ফিলাডেলফিয়ায়।”
কিন্তু তারা আনন্দ প্রকাশ করার আগেই, পিছনে হেডলাইট জ্বলে উঠল।
বইয়ের দোকানের সেই রহস্যময় লোক।
অধ্যায় ৬: ফিলাডেলফিয়ার দিকে দৌড়
তারা কোনোরকমে পালিয়ে গেলো ঐ আজব লোকটার হাত থেকে। এলিজা রেস্টুরেন্টের বাইরে রাখা একটি স্কুটার হটওয়্যার পদ্ধতিতে চাবি ছাড়া স্টার্ট করে ফেলল, আর তারা তাতে করে ছুটে পালাল। অপরিচিত লোকটি একটি কালো স্পোর্টস কার নিয়ে তাদের পেছনে ধাওয়া করল, কিন্তু বোস্টনের প্যাচানো অলি-গলিতে তারা তাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হল।
পরদিন সকালে তারা ফিলাডেলফিয়া রওনা হলো, বাসে উঠেই জানালায় তাকিয়ে দেখতে লাগলো ব্যস্ত শহর। জ্যাক শক্ত করে ব্যাগের উপর থেকেই মেডেলিয়নটি ধরে রেখেছিল।
“লিবার্টি বেল ইন্ডিপেনডেন্স হলে আছে,” সে বলল। “কিন্তু সেখানে লুকিয়ে কিছু খুঁজে বের করা সহজ হবে না।”
এলিজা হাসল, “ভাগ্য ভালো, আমি আমার ট্যুর-গাইড সাজসজ্জা এনেছি।”
অধ্যায় ৭: ঘণ্টার নিচে
ইন্ডিপেনডেন্স হলে বেশ ভিড় জমেছে পর্যটকের। জ্যাক ও এলিজা একদল স্কুল ট্যুরের সঙ্গে মিশে গেল। এলিজা একজন গার্ডকে ১৮শ শতকের জুতা সম্পর্কে প্রশ্নে ব্যস্ত করে রেখেছিল, তখন জ্যাক ঘণ্টার পাদদেশে চুপিসারে চলে গেল।
সেখানে, একটি ব্রোঞ্জ প্লেটের নিচে, সে খুঁজে পেল আরেকটি কুঠুরি যাতে ছিল ভাঁজ করা একটি মানচিত্র।
“১৩টি তারাকে অনুসরণ করো সেই স্থানে যেখানে স্বাধীনতার আগুন সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে জ্বলেছিল।”
“১৩টি তারা,” এলিজা ধীরে বলল, “এগুলো তো মূল উপনিবেশগুলো। হয়তো এটা ভ্যালি ফোর্জকে নির্দেশ করছে?”
জ্যাক মাথা নাড়ল, “চলো।”
অধ্যায় ৮: ভ্যালি ফোর্জ ভল্ট
মানচিত্রটি তাদের নিয়ে গেল ভ্যালি ফোর্জের গভীর জঙ্গলে একটি শ্যাওলাধরা চিহ্নের দিকে। তারা চিহ্নগূলো অনুসরণ করল এবং কিছুদুর যাওয়ার পর আবিষ্কার করলো পূরনো এক গোপন পথ, যা ওদের নিয়ে গেল পুরনো এক পাথরের ভিত্তির কাছে একসময়কার বেশ পূরনো একটি কেবিন।
সেখানে, ধ্বংসস্তূপের নিচে, তারা আবিষ্কার করল একটি লোহার দরজা যাতে খোদাই করা ছিল সেই লিবার্টি অর্ডারের সীল।
তারা দরজাটি খুলল, বুকটা ধুকপুক করছে টেনশনে ও ভয়ে।
ভেতরে ছিল বহু প্রাচীন নথিপত্র, যুদ্ধের দিনলিপি, সিল করা একটি চিঠির তাক।
আর একটি স্ক্রল, লাল মোম দিয়ে সিল করা: দ্য লিবার্টি সাইফার।
জ্যাক তা সাবধানে যত্ন সহকারে তুলল।
“এই তো সেটি,” সে ফিসফিস করে বলল, “এমন কিছু সত্য লুকিয়ে রেখেছিলেন যা ইতিহাসের বইগুলোতে নেই।”
অধ্যায় ৯: হামলা
তারা বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাজির হল সেই লোক এবার তার সঙ্গে আরও দুইজন।
“তোমাদের কষ্টের জন্য ধন্যবাদ,” সে ঠাট্টা করে বলল। “সাইফারটা দাও।”
জ্যাক ও এলিজা দৌড় লাগাল। জঙ্গলে শুরু হল এক তীব্র ধাওয়া। শেষমেশ এলিজা তার বানানো একটি স্মোক বোম ছুঁড়ে দিল। ধোঁয়ার ভেতর তারা অদৃশ্য হয়ে গেল।
অধ্যায় ১০: বার্তা
বোস্টনে ফিরে, ওয়ার্কশপে নিরাপদে বসে, জ্যাক সতর্কতার সাথে স্ক্রলটি ডিকোড করল। ভেতরে ছিল চমকপ্রদ সত্য: গোপন দাসপ্রথা বিলোপ আন্দোলন, টমাস জেফারসনের গোপন চিঠি, এবং সমতার আহ্বান যা কখনোই প্রকাশিত হয়নি। লিবার্টি অর্ডার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাধীনতার আদর্শকে সংরক্ষণ করেছিল যদিও তা একদিন পৃথিবী তা ভুলে যায়।
জ্যাক বলল, “আমরা এটা লুকিয়ে রাখতে পারি না।”
এলিজা মাথা নেড়ে বলল, “অবশ্যই”
তারা সবকিছু অনলাইনে একটি ফেইক নামে প্রকাশ করে দিল।
কয়েক দিনের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে গেল। ওদিকে পুলিশের হাতে ধরা পরে রহস্যময় লোকটি, স্থানীয় মিউজিয়াম থেকে একটি প্রাচীন মূর্তি চুরির দায়ে পুলিশ আগে থেকেই খুঁজছিলো ওকে।
পরিশেষ: পরবর্তী সাইফার
জ্যাক ফিরে এল বুকস্টোরে যা এখন তার দেখভালে। সন্ধ্যার নীরবতায়, সে একটি ফাঁপা দেয়ালে লুকানো আরেকটি সিন্দুক খুঁজে পেল।
আরেকটি মোম সীল।
আরেকটি রহস্য।
সে হাসল।
ইতিহাস, মনে হয়, এখনো শেষ হয়নি।
সমাপ্ত।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0