গরুর মাংস : খাওয়ার আগে জেনে নিন
গরুর মাংস সুস্বাদু হলেও ভুলভাবে খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে । অ্যালার্জি থেকে শুরু করে জীবাণুযুক্ত বা অর্ধসেদ্ধ মাংস সবই বিপদের কারণ । প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় । তাই সতর্কভাবে বেছে , পরিষ্কার করে এবং ভালোভাবে সেদ্ধ মাংস খাওয়া উচিত ।
গরুর মাংস : খাওয়ার আগে জেনে নিন
জেরিন জাহান দিশা
গরুর মাংস আমাের দেশে খুবই পরিচিত ও সুস্বাদু একটি খাবার । এতে অনেক পুষ্টিগুণও আছে । কিন্তু অনেকেই এখন গরুর মাংস খেয়ে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন । কেন এই মাংস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে তা নিচে দেওয়া হলো :
১ . অ্যালার্জি সমস্যা :
অনেকের শরীরে অ্যালার্জি বেশি থাকে । তাই গরুর মাংস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল দাগ দেখা দেয় । গরুর মাংসে প্রোটিন বেশি তাই । নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । যেমন :
. চুলকানি
. পেটব্যথা বা বমি
. শ্বাসকষ্ট
এগুলো কে বলা হয় মাংস অ্যালার্জি ।
২ . জীবাণুমুক্ত মাংস খাওয়া :
যদি মাংস পরিষ্কারভাবে কাঁটা , সংরক্ষণ বা রান্না না করা হয় , তবে এতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে ।
. ই . কোলাই
. স্যালমোনেলা
এই জীবাণুগুলো শরীরে গেলে ডায়রিয়া , জ্বর ,বমি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে । অর্ধসেদ্ধ মাংস হলে ঝুঁকি আরও বেশি ।
৩ . প্রক্রিয়াজাত মাংসের ক্ষতি :
সসেজ , কিমা ও হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে অনেক সময় বেশি লবণ , রং ও সংরক্ষণকারী থাকে । এগুলো বেশি খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয় যেমন :
. রক্তচাপ বাড়তে পারে
. হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
. দীর্ঘদিন খেলে কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে
৪ . অতিরিক্ত চর্বি কোলেস্টেরল :
গরুর মাংসে চর্বির পরিমাণ বেশি । তাই অতিরিক্ত বেশি খেলে -
. কোলেস্টেরল বাড়ে
. রক্তনালীতে চর্বি জমে
. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে
তাই কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে খাওয়া উচিত ।
৫ . অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোনের প্রভাব :
কিছু খামারে গরুকে বড় করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন ব্যবহার করা হয় ।
. শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক - প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হতে পারে
. দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে
ঝুঁকি কমাতে মাংস ভালো করে সেদ্ধ করতে হবে । লবণ কম খেতে হবে । শরীরে কোন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।
গরুর মাংস খুব শক্তিশালী খাবার । তাই অনেকের হজমে সমস্যা হয় । চর্বি প্রোটিন বেশি থাকায় শরীরকে এটি ভাঙতে সময় লাগে । তাই যাদের ডায়াবেটিসসহ লিভারে সমস্যা আছে তাদের গরুর মাংস খেতে নিষেধ করেন ।
৬ . হজম হতে বেশি সময় লাগে :
গরুর মাংস শক্ত হওয়ায় এটি হজম হতে সময় লাগে তাই অনেকের গ্যাস , অম্বল , বুকজ্বালা , কোষ্ঠকাঠিন্য এসব সমস্যা দেখা দেয় । মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হয় ।
৭ . প্রদাহ বাড়তে পারে :
গরুর মাংস বেশি খেলে শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে ফলে জয়েন্টে ব্যথা , ত্বকের সমস্যা , পেটের সমস্যা বাড়তে পারে । বিশেষ করে যারা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন , তাদের জন্য লাল মাংস কম খাওয়া ভালো ।
৮ . কিডনীর ওপর চাপ বাড়ে :
গরুর মাংসের প্রোটিন ভাঙতে কিডনীকে বেশি কাজ করতে হয় । তাই যাদের কিডনী দূর্বল , ইউরিক এসিড , গাউট সমস্যা আছে , তাদের মাংস কম খেতে বলা হয় । বেশি খেলেই ব্যথা বা ফোলাভাব বেড়ে যেতে পারে ।
৯ . ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে টক্সিন তৈরি হয় :
মাংস যদি বারবার গলিয়ে ফ্রিজে রাখা হয় বা দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া হয় , তাহলে এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও টক্সিন তৈরি হতে পারে । এতে পেটের সমস্যা বাড়তে পারে ।
What's Your Reaction?
Like
4
Dislike
0
Love
4
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
4