ডেটা সায়েন্স ও ডেটা অ্যানালিটিক্স - আধুনিক বিশ্বের অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘ডেটা’ বা তথ্যই হলো ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি। আমরা যখনই কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি, আমরা অজান্তেই বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি করি। এই বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার থেকে ব্যবসার জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত বের করে আনার প্রক্রিয়াই হলো ডেটা সায়েন্স এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স। একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে এই পেশাটি এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এবং যুগোপযোগী ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর অনুমানের ভিত্তিতে ব্যবসা করে না, বরং তারা প্রতিটি পদক্ষেপ নেয় ডেটা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু এই জগতটি আসলে কীভাবে কাজ করে এবং একজন সফল প্রফেশনাল হতে হলে ঠিক কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হয়, তা বোঝার জন্য এর ভেতরের গঠনটি জানা অত্যন্ত জরুরি।

নভেম্বর 23, 2025 - 14:32
 0  16
ডেটা সায়েন্স ও ডেটা অ্যানালিটিক্স - আধুনিক বিশ্বের অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘ডেটা’ বা তথ্যই হলো ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি। আমরা যখনই কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি, আমরা অজান্তেই বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি করি। এই বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার থেকে ব্যবসার জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত বের করে আনার প্রক্রিয়াই হলো ডেটা সায়েন্স এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স। একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে এই পেশাটি এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এবং যুগোপযোগী ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর অনুমানের ভিত্তিতে ব্যবসা করে না, বরং তারা প্রতিটি পদক্ষেপ নেয় ডেটা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু এই জগতটি আসলে কীভাবে কাজ করে এবং একজন সফল প্রফেশনাল হতে হলে ঠিক কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হয়, তা বোঝার জন্য এর ভেতরের গঠনটি জানা অত্যন্ত জরুরি।

উপরের ডায়াগ্রামটির দিকে তাকালে ডেটা সায়েন্সের প্রকৃত রূপটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এটি কোনো একক বিষয় নয়, বরং তিনটি ভিন্ন জগতের এক জাদুকরী সংমিশ্রণ। ডায়াগ্রামটিতে তিনটি প্রধান বৃত্ত দেখা যাচ্ছে: ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং বিজনেস নলেজ। একজন দক্ষ ডেটা প্রফেশনাল হওয়ার যাত্রা শুরু হয় পরিসংখ্যান বা স্ট্যাটিসটিক্স এবং ডেটা মাইনিং দিয়ে, যা ডেটা অ্যানালিটিক্সের মূল ভিত্তি। এর কাজ হলো অতীত ও বর্তমানের ডেটা বিশ্লেষণ করে প্যাটার্ন খুঁজে বের করা। কিন্তু যখন এর সাথে কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং যুক্ত হয়, তখন আমরা ডেটা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎবাণী করার ক্ষমতা অর্জন করি। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো 'বিজনেস বা ডোমেইন নলেজ'। আপনি যদি শুধুই কোডিং জানেন কিন্তু ব্যবসার ধরণ না বোঝেন, তবে সেই বিশ্লেষণ কোনো কাজে আসবে না। ডায়াগ্রাম অনুযায়ী, ডেটা সায়েন্সের আসল "Sweet Spot" বা কেন্দ্রবিন্দু হলো ঠিক সেই জায়গাটি, যেখানে অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং ব্যবসায়িক জ্ঞান—এই তিনটি বৃত্ত একে অপরের সাথে মিলিত হয়েছে।

ক্যারিয়ার হিসেবে ডেটা সায়েন্স এবং অ্যানালিটিক্স বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন একটি ক্ষেত্র। ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, টেলিকমিউনিকেশন, স্বাস্থ্যখাত থেকে শুরু করে ই-কমার্স—প্রতিটি সেক্টরেই এখন দক্ষ ডেটা এক্সপার্টদের হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জব মার্কেট এবং লিঙ্কডইনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং অ্যানালিস্টদের বেতন কাঠামো আইটি সেক্টরের অন্যান্য অনেক জবের তুলনায় আকর্ষণীয়। একজন এন্ট্রি লেভেল অ্যানালিস্টও বাংলাদেশে সম্মানজনক বেতনে চাকরি শুরু করতে পারেন এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, এই স্কিলটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর 'গ্লোবাল মোবিলিটি' বা বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা। যেহেতু কাজটি মূলত কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নির্ভর, তাই বিশ্বের নামীদামি কোম্পানিগুলোতে (যেমন গুগল, অ্যামাজন) রিমোট জবের মাধ্যমে ঘরে বসেই ডলারে আয় করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। পেশাগতভাবে এটি অত্যন্ত স্বীকৃত একটি ফিল্ড; বর্তমানে গুগল (Google), আইবিএম (IBM) বা মাইক্রোসফটের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন এই পেশার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সম্মানজনক ক্যারিয়ারটি আপনি কীভাবে অর্জন করবেন? এটি অর্জন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। শুরুটা করতে হবে গণিত এবং পরিসংখ্যানের (Statistics) মৌলিক বিষয়গুলো ঝালাই করে নেওয়ার মাধ্যমে, কারণ ডেটা সায়েন্সের ভাষা হলো গণিত। এরপর আপনাকে শিখতে হবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, যার মধ্যে পাইথন (Python) বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ। ডেটাবেস থেকে তথ্য বের করে আনার জন্য এসকিউএল (SQL) শেখা বাধ্যতামূলক। এরপর সেই তথ্যকে সুন্দর গ্রাফ বা চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করে স্টেকহোল্ডারদের বোঝানোর জন্য পাওয়ার বিআই (Power BI) বা ট্যাবলু (Tableau) আয়ত্ত করতে হবে। আর আপনি যদি পুরোদস্তুর ডেটা সায়েন্টিস্ট হতে চান, তবে আপনাকে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমগুলোও শিখতে হবে। মনে রাখবেন, এটি রাতারাতি শেখার বিষয় নয়; ধৈর্য ধরে নিয়মিত প্রজেক্ট তৈরি এবং গিটহাবে (GitHub) নিজের পোর্টফোলিও সাজানোর মাধ্যমেই আপনি এই সেক্টরে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।

What's Your Reaction?

Like Like 2
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0
Niloy66 MD Sabbir Hossen