ঋতুর লড়াই
বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ , যেখানে গরম , শীত ও বর্ষা মানুষের জীবনযাপনে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে । চরম তাপ , কনকনে শীত ও অতিবৃষ্টি দৈনন্দিন কাজ , কৃষি ও চলাচলে বাঁধা দেয় । প্রতিটি ঋতু মানুষের পোশাক , খাদ্যাভ্যাস ও কাজের ধরেন পরিবর্তন আনে । সব বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষ ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জীবন চালিয়ে যায় ।
বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ । এই ছয়টি ঋতুর মধ্যে গরমকালে , শীতকাল এবং বর্ষাকাল এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে । ছয়টি ঋতু যেমন মনকে আনন্দ দেয় , তেমনি কখনো কখনো মানুষকে নিঃশ্বাস নিতে নিতে দেয় না ।
গরমকালের চাপ
গরমকালে এতো রোদের তাপ থাকে । শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে ওঠে । দিনের তীব্র তাপ এবং আর্দ্রতার কারণে কৃষক মাঠে কাজ করতে পারে না । গাছের ছায়া , হালকা বাতাস , কিংবা এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য মানুষ আকাশ পানে চেয়ে থাকে । দুপুর ১২:০০ টায় যখন কৃষকেরা মাঠের কাজ শেষ করে বিশ্রামের জন্য গাছের ছায়ায় বসেন , একটু বাতাসের জন্য । কিন্তু গাছের একটি পাতাও নড়ে না , বাতাস নেই, রোদ তীব্র ।
গরমের তীব্রতা এত বড় যে , পায়ে স্যান্ডেল- বিহীন বাইরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব । শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য অনেকে দুই বেলা গোসল করে । ফ্রিজের পানি খাই । ওর স্যালাইন বা টেস্টি স্যালাইন খাই । খলিশাকুন্ডিতে একটা গাছ আছে যার আঞ্চলিক নাম পেপোলট্রি অনেকেই ওই পাতা গরম পানিতে সেদ্ধ করে ফুটিয়ে ঠান্ডা হলে সারা গায়ে মাখে । অনেকেই এই গাছের পাতার রস খাই । শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য ।
গরমকালে প্রচুর পানি পিপাসা লাগে । কিন্তু পানি খেয়ে যেন মন ভরে না । গরমের তীব্রতা অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো শত্রু হয়ে দাঁড়ায় । সরাসরি রোদ , উত্তপ্ত মাটির তাপ যেটা সহ্য করা যায় না । এই পরিস্থিতিতে শহরে , গ্রামে , বাজারে , রাস্তায় সব জায়গায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন কে প্রভাবিত করে । সাপ এবং বিষাক্ত পোকামাকড় বাইরে বের হয় বেশি ।
শীতকালের বিপর্যয়
শীতকালে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো । হাড় কাঁপানো ঠান্ডা এবং তীব্র বাতাসে বাইরে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর । শীতকালে বাতাসের প্রয়োজন হয় না । কিন্তু বাতাসটা শীতকালে বেশি দেখা দেয় । শীতকালে প্রয়োজন হয় একটু রোদের । শীতকালে মানুষ জুতা -মোজা সোয়েটার জ্যাকেট পরে শীত ভাঙায় । সোয়েটার -মাফলার পরে তবেই শরীরের তাপ ঠিক থাকে । ছায়ায় থাকলে শীত লাগে , আবার রোদে গেলে গরম ধরে । শীতের সময় আগুন এবং রোদ মানুষ কে বন্ধু হয়ে সাহায্য করে । শহর ও গ্রামের মানুষ সবাই রোদ এবং উষ্ণতার খোঁজে থাকে ।
শীতকালে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলে রোদে খেলাধুলা , হাঁটাহাঁটি বা কাজ করতে আগ্রহী । শীতের এই বিপর্যয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন কে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে ।
বর্ষাকালের সমস্যার ছোঁয়া
বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা । ফসল নষ্ট হলে বছরের পরিশ্রম বিনষ্ট হয়ে যায় । শহরে ও মানুষ জলমগ্ন রাস্তায় চলাচলে সমস্যায় পড়েন । গাছপালা ও নদী বাঁধ কেটে বাড়ি , বাজার , এবং স্কুলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে ওঠে। কৃষকরা জানান বর্ষাকালে দিনের পরদিন বৃষ্টি হলে ফসল নষ্ট হয়ে যায় । সবার মুখ শুকিয়ে যায় । ফসল ঘরে না উঠলে খাবার খাব কিভাবে । বর্ষার ঝড় বা অতিবৃষ্টিতে গ্রামের মানুষ অনেক সময় ঘরের ভেতরই অবস্থান করতে বাধ্য হন ।
গরম , শীত , বর্ষা সব ঋতুতেই মানুষের জীবনযাপন কিছু না কিছুভাবে প্রভাবিত হয় । দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে কাজের ধরন , পোশাক , খাদ্যাভ্যাস , ঘুম সবকিছুই ঋতুর সঙ্গে মিলিয়ে সাজাতে হয় ।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন , বাংলাদেশের ছয় ঋতুর বিপর্যয় দেশের জলবায়ুর একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য । গরম , শীত এবং বর্ষার চরম পরিস্থিতি মানুষের জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে । কৃষক , শ্রমিক , পথচারী সবাই এই ঋতু গুলোর চ্যালেঞ্জের শিকার । বিশেষ করে গ্রামীণ মানুষ ও কৃষকরা ঋতুর প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল ।
বাংলাদেশের মানুষ ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে জানে । জীবনযাপনই হয় এক ধরনের অবিরাম অভিযোজন। গরম -শীত বর্ষা সব ঋতুই মানুষকে শিখিয়ে দেয় , সহনশীল , ধৈর্য এবং খাপ খাইয়ে নেওয়ার শক্তি ।
Files
What's Your Reaction?
Like
5
Dislike
0
Love
5
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
5