জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিয়ে কিছু মিথ্যাচারের জবাব ( বাকশাল স্বৈরাচার বা একদলীয় শাসন ছিল না )
গত এক বছরে জনগণের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুু , বাকশাল এসব নিয়ে অসংখ্য মিথ্যাচার করা হয়েছে, প্রোগাপান্ডা রটানো হয়েছে। সেই মিথ্যার প্রাচীর ভেঙে ফেলে সত্য ও সঠিক তথ্য মানুষকে জানানোই এ পোস্টের উদ্দেশ্য
বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলঃ বঙ্গবন্ধু স্বৈরাচার, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট।
জবাবঃ বাকশাল স্বৈরাচার বা একনায়কতন্ত্র ছিল না। বাকশাল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল না, এটা ছিল সর্বদলীয় শাসনব্যবস্থা। এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ কম্যুনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, জাতীয় লীগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন। বাকশালে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল, এমনকি শেখ মুজিবকে ভোট দিয়ে সরানোর ব্যবস্থাও ছিল। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য বাকশাল গঠন করেন নাই। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল, দুর্নীতি চরমে উঠেছিল, দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা চলছিল। তাই তখন সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হয়েছিল। এটা ছিল একটা আপাদকালীন ব্যবস্থা। বাকশালের লক্ষ্য ছিল ভূমি সংস্কার, গ্রামীণ সমবায়, সম্পদের সুষম বন্টন ( ধনীর সম্পদ নিয়ে গরীবকে বিলিয়ে দেয়া ) ও দুর্নীতি দমন। বাকশাল কায়েম হলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের মত উন্নত হয়ে যেত।
জাতির পিতার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগঃ বঙ্গবন্ধু নাকি ইচ্ছা করে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান আর্মির হাতে ধরা দিয়েছে।
জবাবঃ এবি পার্টির টাকলা ফুয়াদ ও পিনাকীসহ অনেক বদমাশ বর্তমানে রটাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু নাকি ইচ্ছা করে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান আর্মির হাতে ধরা দিয়েছে। এটা ইতিহাস বিকৃতি। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর দলীয় নেতারা তাঁকে বারবার নিরাপদ স্থানে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি যাননি। বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে চলে গেলে কাপুরুষ হিসাবে চিহ্নিত হতেন। তখন পিনাকী ইলিয়াস শেখ মুজিবকে কাপুরুষ বলত। বঙ্গবন্ধু যাই করুক না কেন, শুয়োরের বাচ্চারা সবসময় কোন না কোন খুত খুজে বের করবে। পাকিস্তান অফিসার রাও ফরমান আলী রাও তার বই “ How Pakistan Got Divided” এ লিখেছে, ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। উনি ইচ্ছা করে ধরা দেন নাই।
তৃতীয় অভিযোগঃ বঙ্গবন্ধু সরাসরি বন্দুক হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন নাই।
জবাবঃ যেকোন যুদ্ধ সংঘঠিত হবার জন্য শুধু দেশপ্রেম থাকা যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি একটা নেতৃত্বও থাকা লাগে। সেই নেতৃত্ব চোখের সামনে থাকারও দরকার নাই, জীবিত থাকাই যথেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছেই বঙ্গবন্ধুর অদৃশ্য নেতৃত্বে, তাঁর ভাবমূর্তির উপর ভিত্তি করে। মুক্তিযোদ্ধারা ভেবেছিল, “আমাদের মাথার উপর একজন আছে, মহান জাতির মহান নেতা, তার জন্য আমরা যুদ্ধ করছি।” বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিলে মুক্তিযোদ্ধাদের মাথার উপর কোন নেতৃত্ব থাকত না।
চতুর্থ অভিযোগঃ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধাণমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।
জবাবঃ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, "আমি প্রধাণমন্ত্রীত্ব চাই না। আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই।" .. এ বক্তব্য থেকেই তো clear হবার কথা যে, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন পাকিস্তানের শাসনভার বাঙালিদের হাতে থাকুক। বাঙালি প্রধাণমন্ত্রী হলেই বাঙালিদের অধিকার নিশ্চিত হবে। প্রধাণমন্ত্রী উনাকেই হতে হবে, এমন কোন কথা নাই। যেকোন বাঙালি হলেই চলবে।
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধাণমন্ত্রী হবার পর ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন বাংলাদেশ বানিয়ে ফেলতেন রক্তপাত ছাড়া। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন ঠিকই তবে রক্তপাতহীনভাবে। যুদ্ধের মাধ্যমে নয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0