একটি পিঁপড়ার এক্সোস্কেলটন বা বহিঃকঙ্কাল এবং হাইড্রোলিক লিম্ব মেকানিজম এতটাই অ্যাডভান্সড যে, এটি তার নিজের ওজনের ৫০ থেকে ১০০ গুণ ভার বহন করতে সক্ষম। হিউম্যান স্কেলে চিন্তা করলে, এটি একজন মানুষের এক হাতে একটি ট্রাক তুলে ফেলার সমতুল্য।
বিবর্তনবাদের র্যান্ডম মিউটেশন বা কাকতালীয় পরিবর্তন দিয়ে এই নিখুঁত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে এর চেয়েও বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে তাদের সফটওয়্যারে, যাকে মডার্ন সায়েন্স বলছে সোয়ার্ম ইন্টেলিজেন্স।
কম্পিউটার সায়েন্সের ভাষায় পিঁপড়ারা হলো একটি ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক-এর মতো। এদের কোনো সেন্ট্রাল সার্ভার বা একক নেতা নেই। হাজার হাজার পিঁপড়া মিলে একটি সুপার অর্গানিজম বা একক সত্তা হিসেবে কাজ করে। এরা ফেরোমোন নামক রাসায়নিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সফার করে। কোনো ট্রাফিক জ্যাম নেই, কোনো সিগন্যাল লস নেই, অত্যন্ত কমপ্লেক্স একটি কমিউনিকেশন প্রোটোকল।
প্রশ্ন হলো, মস্তিষ্কের সাইজ যেখানে ধূলিকণার সমান, সেখানে এই লেভেলের ডেটা প্রসেসিং এবং ডিসিশন মেকিং ক্যাপাবিলিটি কোথা থেকে এল?
ঠিক এই পয়েন্টেই ১৪০০ বছর আগের কুরআন এবং মডার্ন এন্টোমোলজি বা পতঙ্গবিজ্ঞান এক অবিশ্বাস্য বিন্দুতে মিলিত হয়। সূরা আন-নামল-এর ১৮ নম্বর আয়াতে একটি স্পেসিফিক ইভেন্ট রেকর্ড করা হয়েছে:
একটি পিঁপড়া বলল: হে পিঁপড়ারা! তোমরা তোমাদের গর্তে প্রবেশ করো, যাতে সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদের অজ্ঞাতসারে পিষ্ট না করে ফেলে। (কুরআন ২৭:১৮)
সায়েন্টিফিকলি এই আয়াতটি তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা পয়েন্ট উন্মোচন করে:
1. অ্যাকুস্টিক/কেমিক্যাল কমিউনিকেশন: পিঁপড়াটি কেবল নিজেকে বাঁচায়নি, বরং একটি ব্রডকাস্ট মেসেজ পাঠিয়ে পুরো কলোনিকে সতর্ক করেছে। অথচ ১৯ শতকের আগে বিজ্ঞান জানত না যে, পিঁপড়ারা একে অপরের সাথে জটিল তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
2. থ্রেড অ্যানালাইসিস: পিঁপড়াটি আসন্ন বিপদ বা ক্রাশিং ফোর্স সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং তাৎক্ষণিক সলিউশন (গর্তে প্রবেশ) ক্যালকুলেট করতে পেরেছে।
3. থিওরি অফ মাইন্ড: এটি সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট। আয়াতে বলা হয়েছে, লা ইয়াহতেমান্নাকুম... ওয়া হুম লা-ইয়াশউরিুন (যাতে তারা তোমাদের পিষ্ট না করে... অথচ তারা টেরও পাবে না)। এখানে তারা টেরও পাবে না বা Perceive not অংশটি লক্ষ্য করুন।
বায়োলজিক্যালি পিঁপড়ারা তাদের পরিবেশ স্ক্যান করে ভাইব্রেশন এবং কেমিক্যাল সেন্সরের মাধ্যমে। অন্যদিকে, মানুষ নির্ভর করে ভিজ্যুয়াল বা দৃষ্টিশক্তির ওপর। মাটির নিচে বা ঘাসের আড়ালে থাকা ক্ষুদ্র পিঁপড়ার উপস্থিতি যে মানুষের সেন্সরি রেঞ্জ-এর বাইরে, এই হাই-লেভেল প্রসেসিং পাওয়ার পিঁপড়ার মস্তিষ্কে এল কীভাবে? একটি ক্ষুদ্র পোকা কীভাবে জানে যে মানুষের পারসেপশন বা উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা কোথায়?
র্যান্ডম ইভোলিউশন বা অন্ধ প্রকৃতি কি একটি পোকাকে অন্য স্পিসিসের সেন্সরি লিমিটেশন বোঝার মতো জটিল জ্ঞান দিতে পারে? গানিতিকভাবে এটি অসম্ভব বা ইম্পসিবল।
এখানেই ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন-এর প্রমাণ স্পষ্ট। যেখানে একটি অপারেটিং সিস্টেম আছে, সেখানে অবশ্যই একজন প্রোগ্রামার আছেন। সূরা ত্বহা-র ৫০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: রববুনাল্লাজি আতা কুল্লা শাইয়িন খলকাহু, ছুম্মা হাদা। (আমাদের রব তিনি, যিনি প্রতিটি বস্তুর গঠন বা হার্ডওয়্যার দিয়েছেন এবং এরপর তার ভেতরে গাইডেন্স বা সফটওয়্যার ইনস্টল করেছেন)।
সো পিঁপড়ার এই বায়োলজিক্যাল অ্যালগরিদম প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের কোনো কিছুই বিশৃঙ্খল বা ক্যাওটিক নয়। প্রতিটি প্রাণী, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, একটি সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভুল কোড মেনে চলছে। আর লজিক বলে, একটি এনক্রিপ্টেড কোড কখনো নিজে নিজে লেখা হতে পারে না, এর পেছনে অবশ্যই একজন মাস্টার কোডার বা মহাজাগতিক সত্তা রয়েছেন।
অতএব এটি বিশ্বাস নয়, এটি পিওর ডেটা এবং লজিক।