বিচ্ছেদের গণিত

এই কবিতায় অপেক্ষা, বিচ্ছেদ এবং অধরার প্রেমকে লিপ ইয়ারের ২৯ ফেব্রুয়ারির প্রতীকে তুলে ধরা হয়েছে। কবি নিজের ক্ষয় ও প্রিয় মানুষের অক্ষয় অবস্থানের তুলনায় সময়ের নিষ্ঠুর অসমতা প্রকাশ করেছেন। নিকোটিনের ধোঁয়া, ঋতুচক্র ও ক্যালেন্ডারের ভাষায় ভালোবাসার অনিশ্চিত প্রাপ্তি ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারী 19, 2026 - 10:45
ফেব্রুয়ারী 19, 2026 - 20:24
 0  2
বিচ্ছেদের গণিত

বিচ্ছেদের গণিত

তুমি ঠিক ডিসেম্বরের অন্তিম সূর্যাস্ত—

যাকে স্পর্শ করতে আমায় পেরোতে হয়

তিনশ পঁয়ষট্টিটি দীর্ঘ রজনী।

তুমি ঠিক ফেব্রুয়ারির ঊনত্রিশ—

চার বছরে একবার আসে,

অথচ প্রতিটি বছরই

আমার ক্যালেন্ডারে

তোমার জন্য অপেক্ষা জমে থাকে।

তুমি চাইলেই এক পলকে আমাকে পেতে পারো,

আর আমার পৌঁছাতে লাগে

একটি পূর্ণ জীবন।

এই অসমতাটুকুই

আমার বিচ্ছেদের ব্যাকরণ।

আমি বসন্তের শেষ প্রহর গুনি

তোমার হাসির হিরণ্ময় দ্যুতিতে,

ফাল্গুনের ম্লান চাঁদ খুঁজি

তোমার চোখের গহন আলোয়।

শরতের শেষ শিউলি

আজও কেবল তোমার নামেই ফুটতে চায়,

কিন্তু তুমি আমায় রেখেছো

এমন এক যোজন দূরত্বে—

যেখানে পুষ্পিত হওয়ার আগেই

আশার সব পাপড়ি

ঝরে পড়ে ধূসর ধুলোয়।

সময়ও যেন তোমার পক্ষেই থাকে—

সে আমাকে দেয়

প্রতিদিনের অপেক্ষা,

আর তোমাকে সংরক্ষণ করে

একটি লিপ ইয়ারের ভেতর।

আমি ক্ষয় হই প্রতিটি দিনে,

আর তুমি অক্ষত থাকো

ঊনত্রিশ ফেব্রুয়ারির মতো—

বিরল, অধরা, অব্যবহৃত।

নিকোটিনের কৃষ্ণবর্ণ ধোঁয়ায়

আমি তিল তিল করে বিসর্জন দিই আমার সত্তা—

শ্বাস, স্বপ্ন, বেঁচে থাকার গভীর বিশ্বাস।

তবুও এই বিষাক্ত বাষ্পের কুণ্ডলীতেই

আমি তোমাকে আগলে রাখি,

যেন পৃথিবীর কোনো রূঢ় আগুন

বা ছাই

তোমাকে স্পর্শ করতে না পারে।

তুমি ঠিক ওই নীলচে ধোঁয়ার মতোই—

যত নিবিড় করে পেতে চাই,

ততই তুমি অধরা।

আঙুলের ফাঁক গলে

মিশে যাও

কোনো এক শূন্যতার মিছিলে।

এক অনিশ্চিত প্রাপ্তির ভার নিয়েই

আমাকে বাঁচতে হয়—

ঋতুশেষে,

নিশীথ রাতে,

কিংবা একটি নিভে যাওয়া সিগারেটের অন্তিমে।

তবুও হৃদয়ের গভীরে

একটি কাল্পনিক আকাঙ্ক্ষা জেগে থাকে—

যদি কোনোদিন

এই পৃথিবীর সব ধোঁয়াজাল থেমে যায়,

যদি ফুরিয়ে যায় তামাকের বিষ,

নিভে যায় হৃদয়ের সব আগুন;

যদি ঋতু বদলের এই নির্মম গণিত

কোনোদিন স্তব্ধ হয়ে যায়—

তবে কি তুমি সেদিন

আমায় মুক্তি দেবে

এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা থেকে?

আমি কল্পনা করি

এক ধোঁয়াহীন ভোরের,

যেখানে কোনো ঘড়ি নেই,

ক্যালেন্ডারের পাতা ঝরার

কোনো দীর্ঘশ্বাস নেই।

সেদিন তুমি প্রথমবারের মতো

ফিরে তাকাবে

আমার চোখের আয়নায়—

অপেক্ষাহীন,

বিচ্ছেদহীন,

এক নিটোল পূর্ণতায়।

সেদিন মহাকালের স্রোত

থেমে যাবে,

আর অবশিষ্ট থাকবে শুধু—

আমি,

আর তুমি;

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 1
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0
sun25 mahmud লেখালেখি আমার আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। কবিতা ও গদ্যের ভেতর দিয়ে মানবিক অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা আমার প্রয়াস। আমি বিশ্বাস করি, সাহিত্য মানুষের বিবেককে জাগ্রত করতে পারে।